The Jungle Book ও মোগলির জয়জয়কার!!



আমাদের ছোটবেলা কেটেছে গল্পের বইয়ে মোগলির গল্প পড়ে। সেই মোগলি এখন থিয়েটারে। সঙ্গে আছে তার যত সাঙ্গোপাঙ্গ। The Jungle Book মুভির মাধ্যমে আমরা ফিরে পেয়েছি আমাদের সেই ছোটবেলার হতে চাওয়া মোগলিকে।

জন ফ্যাব্রাইয়ের পরিচালনায় মুভিটি মুক্তির প্রথম সপ্তাহে ১০৩ মিলিয়নের বেশি আয় করেছে। ইন্ডিয়াতে মুক্তি পেয়ে ১০ দিনের মাথায় ১০০ কোটি ক্লাবের বাসিন্দা হয়েছে শাহরুখ খানের ‘ফ্যান” ছবির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে। ক্ল্যাসিক রূপকথার এক জনপ্রিয় নায়ক মোগলি। মানবশিশু মোগলি বড় হয় জঙ্গলে নেকড়েদের লালনপালনে। বনের সব পশু পাখিদের সঙ্গে দোস্তি হলেও বনের শের খান মানে বাঘ মামার সঙ্গে তার ভীষণ শত্রুতা।


শের মোগলির সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করলে জ্ঞানী বন্ধু  বাঘিরা মোগলিকে বন থেকে পালিয়ে চলে যেতে বলে মানুষের আস্তানায়। এর পরপরই শের ঝাঁপিয়ে পড়ে মোগলির উপর। বনের আগুন জ্বালিয়ে এবং বালু আর বাঘিরার সাহায্যে শেরকে পরাস্ত করে মোগলি। অতঃপর ফিরে যায় মানুষের মাঝে।

জানা কাহিনী তাই তো? হ্যাঁ, জানাই বটে! তবুও কেন মানুষ পাগলের মত এই মুভি দেখার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ছে থিয়েটারে! তার কারণ মুভির ঝকঝকে ভিডিওগ্রাফিসঙ্গে মোগলি চরিত্রে নীল শেঠির অভিনয়! ছোট্ট নীল, যার জীবন জুড়ে ছিল কেবল স্কুল আর বন্ধুরা। মাঝে মাঝে ডেন্টিস্ট বাবা মায়ের চেম্বারে যাওয়া এই তো!


কিন্তু ছবিতে অভিনয় সব কিছু বদলে দিল! সত্যিকার আবেগের অভিনয়গুলো করা নীলের পক্ষে কিছুটা হলেও কঠিন ছিল! পাপেটরা সেটে নীলকে সত্যিকার আবেগ প্রকাশের জন্য অনেক সাহায্য করত। তবে পরিচালক জন ফ্যাব্রাইয়ের ভূমিকাও কম না! নীল যা চাইত, তাই করতে অনুমতি দিতেন পরিচালক। এমনকি শট টেকের আগে সাহস দেবার জন্য সেটের সব কিছুর প্রশংসা করতেন। যেমন,“টেবিলটা খুব সুন্দর লাগছে! ওয়াও! জানালাটা তো আরও বেশি সুন্দর!” এভাবে ধীরে ধীরে নীল অনেক সহজ হত।


অভিনয়ের আগে ৪০ মিনিট ধরে মেকআপ নেওয়া খুব একটা কঠিন ছিল না নীলের জন্য। তবে বাফেলো তাড়া করার সময় নীলকে দৌড়াতে হয়েছে কাদার মধ্য দিয়ে। এটাই বরং তার কাছে কঠিন লেগেছে। কারণ কাদাতে হাঁটতে সে অভ্যস্ত ছিল না। এখন নীলের জীবনে স্কুল নেই, ফ্রেন্ড নেই, বাবা মায়ের ডেন্টাল চেম্বার নেই। তার জায়গায় এসেছে মুভি প্রিমিয়ার, দেশে ঘুরাঘুরি ইত্যাদি। আর সেটা ভীষণ উপভোগ করছে নীল। তার ভাষায় এই সময়টা অনেক “কুল”। বিখ্যাত Rotten Tomato এই মুভিকে ৯৫% রেটিং দিয়েছে। এই মুভিটা কোন নির্দিষ্ট বয়সের জন্য না। এই মুভিটা সবার জন্য। নীলের অভিনয়, গল্প, সাউন্ড এবং ভিজুয়াল এফেক্ট আপনাকে কেবল মুগ্ধই করবে।


 

Disney প্রোডাকশনের মুভি The Jungle Book অনেকদিন পর সব ভাষাভাষী এবং বয়সের দর্শককে এক সুতায় বেঁধেছে। এর আগে একই প্রোডাকশন থেকে মুক্তি পেয়েছিল The Jungle Book এর অ্যানিমেশন। তাও সেই ১৯৬৭ সালে! ২০১৬ সালে এসেও পর্দা কাঁপাচ্ছে মোগলির মনমাতানো অভিনয়। তাই এখনই চলছে The Jungle Book মুভির সিকুয়্যাল বানানোর কথা। ১২ বছর বয়সী নীলেরও ভীষণ ইচ্ছা আবার এই ছবিতে অভিনয় করা। তবে সবকিছু Disney এর সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করছে।

কইমই, ইন্ডিপেডেন্ট ডটকো ডটইউকে এবং উইকিপিডিয়া অবলম্বনে, ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত



More news